রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে দেয় যেসব খাবার !

সাধারণত আমাদের রক্তকোষে আয়রনসমৃদ্ধ প্রোটিনটি হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। এটি আমাদের ফুসফুস থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দিতেও ভূমিকা রাখে। এর ফলে জীবিত কোষগুলো ভালোভাবে কাজ করতে পারে। তাই সুস্থ জীবনযাপনে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সঠিক থাকা প্রয়োজন। শরীরে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিনের অভাবে অবসাদ, ক্লান্তি, নিঃশ্বাসের সমস্যা, ফ্যাকাশে চামড়া, ক্ষুধা মন্দা এবং হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। যখন শরীরে এটি তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমে যায় তখন মানুষ রক্তাল্পতায় ভোগে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও- এর তথ্য মতে, সারা বিশ্বের শতকরা ৩০ ভাগ লোক সাধারণত রক্তাল্পতায় ভুগে থাকেন। তাই সমস্যা দূরীকরণে প্রতিদিন আয়রন, ফলিক এসিড, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে ভেষজেও কিন্তু হিমোগ্লোবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

জেনে নিন কিছু ভেষজ যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে-
আমলকি
রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে আমলকির বিকল্প নেই। এই খাবারটিতে প্রয়োজনীয় মিনারেল, আয়রন এবং ভিটামিন সি রয়েছে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিনকে স্বাভাবিক মাত্রায় রাখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে খাবারের কমপক্ষে ৩০-৩৫ মিনিট আগেই আমলকি খান।
হরিতকি
স্বাস্থ্যের যে কোন সমস্যা সমাধানে একটি আশ্চর্যকর ওষুধ হলো হরিতকি। কাজেই শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার অভাব, হিমোগ্লোবিনের অভাব দূর করতেও সমান কার্যকরী এই হরিতকি। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে হরিতকি মধু এবং ঘিয়ের সঙ্গে খেতে পারেন।
অশ্বগন্ধ্যা
হিমোগ্লোবিন বাড়াতে এই ভেষজটি অনেক বেশি উপকারী। আয়রন সমৃদ্ধ এই ভেষজটি নিয়মিত খেলে রক্তে লহিত রক্ত কণিকা এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এটি রক্তকে বিশুদ্ধ করতেও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মতো কাজ করে।
বিটমূল
পুনর্যৌবন লাভ করতে সাহায্য করে বীটমূল। একইসঙ্গে আমাদের শরীরে আয়রন, ভিটামিন, ফলিক এসিড, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান বাড়াতেও কাজ করে এটি। বীটমূল আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিয়ে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। তাই হিমোগ্লোবিন বাড়াতে বিটের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররাও।

আমাদের শরীরের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাস্থ্যকর লেভেল থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি পুরুষদের ক্ষেত্রে ১৪-১৮ এমজি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ১২-১৬ এমজি হলে ভালো হয়। তাই হিমোগ্লোবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিনের ডায়েট চার্টে উপরোক্ত খাবারগুলো রাখার চেষ্টা করুন। এতে সুস্থতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শারীরিক আরও নানা সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

আমাদের ফেসবুকে Follow করতে নিচের Follow বাটনে ক্লিক করুন :

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>