Published On: Thu, Jan 12th, 2017

জল, স্থল ও আকাশ পথে ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা গ্রহণ বিশ্ব ইজতেমায়

সরকার বিশ্ব ইজতেমার উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঢাকার তুরাগ নদীর তীরে আগামী ১৩ থেকে ১৫ এবং ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দু’দফায় এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

ইজতেমায় দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান যোগ দেবেন।
সুষ্ঠুভাবে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে বিপুল সংখ্যক র‌্যাব, পুলিশ এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বোম ডিস্পোজাল এবং ডগ স্কোয়াড ইউনিট মোতায়েনের পাশাপাশি ইজতেমা মাঠে এবং মাঠের কয়েকটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ৯টি ওয়াচ টাওয়ার এবং বিপুল সংখ্যক সিসি টিভি স্থাপন করা হয়েছে।
যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশ এবং র‌্যাবের একাধিক টীমকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তুরাগ নদীতে র‌্যাবের দুটি স্পিড বোট টহল দেবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হেলিকপ্টার ইজতেমা মাঠের আকাশে টহল দেবে।
বিদেশিদের জন্য নির্ধারিত স্থানে স্থল ও নদী পথে যে কোন ধরনের অবৈধ প্রবেশ বন্ধে এবং ছিনতাই, পকেটমার ও অজ্ঞান পার্টির মতো অপরাধ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ইজতেমা মাঠে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিগত বছরের মত তাবলীগ জামায়াতের বিশ্ব ইজতেমায় র‌্যাব ইজতেমা মাঠকে ২টি সেক্টরে ভাগ করে জল, স্থল ও আকাশ পথে ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমার বিশাল জনসমাগমে যে কোন বিশৃংখলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড রোধে অন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাবও বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইজতেমা ময়দানে ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তার দায়িত্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক র‌্যাব সদস্য নিয়োজিত থাকবে।
এছাড়া ইজতেমা মাঠ ও তৎসংলগ্ন এলাকাতে ২টি সেক্টরে নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারির সুবিধার জন্য সমগ্র ইজতেমা মাঠ ঘিরে থাকবে র‌্যাবের ৯টি অবজারভেশন পোস্ট, থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক মোবাইল টহল। রাত্রিকালীন অবজারভেশন পোস্টগুলোতে নাইট ভিশন বাইনোকুলার ব্যবহার করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,ইজতেমা স্থলের অভ্যন্তরে ছদ্মবেশে ও পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারীসহ, গাড়ী এবং মটরসাইকেলে ইজতেমা এলাকায় টহলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তাছাড়াও ইজতেমা সংলগ্ন তুরাগ নদীতে সার্বক্ষণিক নৌ টহলের পাশাপাশি র‌্যাবের একটি চৌকষ দল হেলিকপ্টার যোগে ইজতেমা ময়দানকে ঘিরে আকাশপথে পর্যায়ক্রমে টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং স্থল ফোর্সের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন¦য়ের মাধ্যমে যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
র‌্যাব সূত্র জানায়,র‌্যাব পুরো ইজতেমা স্থলের নিরাপত্তার লক্ষে সিসিটিভি’র মাধ্যমে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে। র‌্যাবের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও সমন¦য় করা হবে এবং ইজতেমা মাঠের নিরাপত্তার বিষয়টি সার্বক্ষণিকভাবে র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে মনিটরিং করা হবে।
এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা তত্ত্বাবধানের জন্য গত ৫ জানুয়ারি থেকে সাদা পোষাকে এবং ইউনিফর্ম টহলের মাধ্যমে র‌্যাব সদস্যরা সার্বক্ষণিকভাবে ইজতেমা মাঠকে নজরদারির মধ্যে রেখেছে।
র‌্যাবের ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়,ইজতেমায় উপস্থিত মুসুল্লীদের জরুরী চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য র‌্যাবের এ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিকভাবে সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের র‌্যাবের এ্যাম্বুলেন্সযোগে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। এছাড়া আগত মুসল্লিদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছে,ইজতেমায় আগত মহিলা মুসল্ল¬¬ীদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক মহিলা র‌্যাব সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইজতেমা এলাকার আশে পাশে ছিনতাই, পকেটমার, মলমপার্টি এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনা এড়াতে ইন্টারমিডিয়েট টহল টিম সার্বক্ষণিক ভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
র‌্যাব জানায়,নৌ পথে যেকোন বিশৃংখলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড রোধকল্পে চলমান টহলের পাশাপাশি দু’টি স্পীডবোটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে নৌ টহল পরিচালনা করা হবে।
ইজতেমায় আগত সকল বিদেশী অতিথিদের নিরাপত্তার জন্য বিদেশী খিত্তা এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে নৌ টহলের পাশাপাশি মোবাইল টহলের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যে কোন ধরনের উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য র‌্যাবের বো¤¦ স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করবে।
ইজতেমা চলাকালীন জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ২৭টি খিত্তায় অবৈধ পথে প্রবেশ বন্ধ ও সকল প্রবেশ পথে গোয়েন্দা নজরদারী ও ইউনিফর্ম টহল এবং সন্দেহভাজন সকল স্থান ও ব্যক্তিদের ব্যাগ ও প্রয়োজনে বিছানাপত্র তল্লাশীর মাধ্যমে র‌্যাব সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
বিশ্ব ইজতেমার শুরু হতে আখেরী মোনাজাতের দিনেও থাকবে র‌্যাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আখেরী মোনাজাতের দিন যাতায়াতের সুবিধার্থে র‌্যাব এর বাসযোগে সাধারণ মুসুল্লিগণ বিনা পয়সায় নির্বিঘ্নে আশেপাশের বাস টার্মিনাল এলাকা হতে ইজতেমা ময়দানে আগমনের ও মোনাজাতের পর মুসুল্লিদের পুনরায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
বিশ্ব ইজতেমা মাঠে র‌্যাবের সহযোগিতা পেতে ইজতেমা মাঠ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ডিউটি অফিসার ৯৮১৫১১২,৯৮১৫১১৩, সিসিটিভি কক্ষ ৯৮১৫১১১ ও ইজতেমা মাঠ ফোকাল পয়েন্ট অফিসার ০১৭৭৭৭১০১৫৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

Must Like and Share 🙂

About the Author

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>