ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক পেরিয়ে নতুন পরিচয়ে ডাকোটা জনসন, সম্পদ প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা
হলিউডে কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে এমন একটি সিনেমা আসে, যা তাঁদের পরিচিতিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেয়। তবে সেই সাফল্যের সঙ্গে কখনো কখনো জুড়ে যায় নির্দিষ্ট একটি চরিত্রের তকমাও। মার্কিন অভিনেত্রী ডাকোটা জনসনের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছিল। ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দিলেও সিনেমাটিকে ঘিরে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য, নগ্নতা ও যৌনতার উপস্থাপন নিয়ে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আলোচনা।
কিন্তু ডাকোটা নিজেকে একটি সিনেমা কিংবা একটি চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। গত এক দশকের বেশি সময়ে বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি স্বাধীন ধারার ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার জগতেও তৈরি করেছেন নিজের অবস্থান। বিভিন্ন ধরনের চরিত্র বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের ক্যারিয়ারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন এই অভিনেত্রী।
জন্ম থেকেই অভিনয়ের পরিবেশে
ডাকোটা মাইয়া জনসনের জন্ম ১৯৮৯ সালের ৪ অক্টোবর, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে। তাঁর বাবা অভিনেতা ডন জনসন এবং মা অভিনেত্রী মেলানি গ্রিফিথ। তাঁর নানি টিপ্পি হেড্রেনও হলিউডের পরিচিত মুখ, যিনি ‘দ্য বার্ডস’ ও ‘মার্নি’র মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
অভিনয়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় ছোটবেলা থেকেই সিনেমার জগতের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন ডাকোটা। মাত্র ৯ বছর বয়সে ‘ক্রেজি ইন আলাবামা’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ছবিটিতে তাঁর মা অভিনয় করেছিলেন এবং তৎকালীন সৎবাবা অ্যান্টোনিও বান্দেরাস ছিলেন পরিচালক।
পরবর্তী সময়ে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। ২০১০ সালে ডেভিড ফিঞ্চারের ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ ছবিতে অভিনয় করেন ডাকোটা। এরপর ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’, ‘দ্য ফাইভ-ইয়ার এনগেজমেন্ট’সহ বিভিন্ন সিনেমা ও টেলিভিশন প্রযোজনায় কাজ করেন। তবে এসব কাজের কোনোটিই তাঁকে রাতারাতি বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। সেই পরিবর্তন আসে ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ দিয়ে।

‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ বদলে দেয় ক্যারিয়ার
২০১৫ সালে মুক্তি পায় ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’। ই এল জেমসের জনপ্রিয় ও বিতর্কিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিটিতে আনাস্তাসিয়া স্টিল চরিত্রে অভিনয় করেন ডাকোটা। তাঁর বিপরীতে ছিলেন জেমি ডরনান।
মুক্তির আগেই ছবিটি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। এর গল্পে প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্ক, যৌনতা, আধিপত্য এবং ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে। একই সঙ্গে এসব বিষয়কে কীভাবে পর্দায় উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়েও চলছিল বিতর্ক।
ডাকোটার জন্য চরিত্রটি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, গল্পের প্রয়োজনে তাঁকে বেশ কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছিল। এসব দৃশ্যের মধ্যেও চরিত্রটির অনুভূতি ও ব্যক্তিত্বকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ছবিটি নিয়ে আলোচনার মধ্যে ডাকোটা নিজের অভিনয় চালিয়ে যান। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং চরিত্রটির জন্য প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলেছেন। তাঁর অভিনয় তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দিলেও একই সঙ্গে তাঁর নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে জড়িয়ে যায় ‘ফিফটি শেডস’–এর পরিচিতি।
নগ্ন দৃশ্য নিয়ে কী বলেছিলেন ডাকোটা
ডাকোটা জনসনের ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনায় বারবার ফিরে আসে ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’–এর ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের প্রসঙ্গ। তবে অভিনেত্রী নিজে বিষয়টিকে কেবল বিতর্কের জায়গা থেকে দেখেননি।
২০২২ সালে ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যৌনতা নিয়ে নিজের কৌতূহল এবং ছবিটিতে অভিনয়ের আগ্রহের বিষয়ে কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, সিনেমাটি নিয়ে শুরুতে তাঁর যে ধারণা ছিল, শেষ পর্যন্ত নির্মিত ছবিটি তার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি।
ছবিটির নির্মাণপ্রক্রিয়া নিয়েও পরবর্তী সময়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ডাকোটা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সৃজনশীল সিদ্ধান্তের জটিলতা এবং নির্মাণের সময় প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে তৈরি হওয়া পার্থক্য।
তবে ‘ফিফটি শেডস’–এর অন্তরঙ্গ দৃশ্যকে নিজের পুরো অভিনয়জীবনের পরিচয় হিসেবে দেখতে চান না তিনি। বরং পরবর্তী কাজগুলোতে ভিন্ন ধরনের চরিত্র বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে নিজের অভিনয়ক্ষমতার আরও বিস্তৃত দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

তিন সিনেমায় আনাস্তাসিয়া স্টিল
‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ শুধু ডাকোটার পরিচিতিই বাড়ায়নি, বাণিজ্যিকভাবেও পেয়েছিল বড় সাফল্য। প্রায় ৪ কোটি ডলার বাজেটে নির্মিত ছবিটি বিশ্বব্যাপী আয় করে প্রায় ৫৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।
এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নির্মিত হয় ‘ফিফটি শেডস ডার্কার’ এবং ‘ফিফটি শেডস ফ্রিড’। পরবর্তী দুটি ছবিও বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য আয় করে। বিভিন্ন বক্স অফিস হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় ছবিটির আয় ছিল প্রায় ৩৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার এবং তৃতীয়টির আয় প্রায় ৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।
তিনটি সিনেমার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ডাকোটাকে হলিউডের পরিচিত বাণিজ্যিক অভিনেত্রীদের সারিতে নিয়ে আসে। পাশাপাশি তাঁর পারিশ্রমিক নিয়েও তৈরি হয় আলোচনা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ছবির জন্য ডাকোটার পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ছবিটির সাফল্যের পর পরবর্তী দুটি সিনেমার জন্য তাঁর পারিশ্রমিক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সাফল্যের আড়ালেও ছিল অসন্তুষ্টি
বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেলেও ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না ডাকোটা। পরবর্তী সময়ে তিনি জানান, ছবিটি তৈরির সময় সৃজনশীল সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
২০২২ সালের সাক্ষাৎকারে সিনেমাটির নির্মাণপ্রক্রিয়াকে অগোছালো ও মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে যে ধরনের সিনেমা করার প্রত্যাশা ছিল, শেষ পর্যন্ত ছবিটি সেভাবে তৈরি হয়নি।
তবু এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্য তাঁর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়ার পর নিজের পছন্দের গল্প ও চরিত্র বেছে নেওয়ার সুযোগও বেড়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ভিন্ন ধারার সিনেমার দিকে ঝুঁকেছেন ডাকোটা।
‘সেক্স সিম্বল’ পরিচয়ের বাইরে নতুন পথ
‘ফিফটি শেডস’–এর পর ডাকোটা জনসনকে একাধিক ভিন্নধর্মী সিনেমায় দেখা গেছে। ‘আ বিগার স্প্ল্যাশ’, ‘ব্ল্যাক মাস’, ‘হাউ টু বি সিঙ্গেল’, ‘ব্যাড টাইমস অ্যাট দ্য এল রয়্যাল’, ‘সাসপিরিয়া’ এবং ‘দ্য পিনাট বাটার ফ্যালকন’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে।
বিশেষ করে লুকা গুয়াদানিনোর ‘সাসপিরিয়া’ ছবিতে অভিনয় তাঁর ক্যারিয়ারের আলাদা একটি অধ্যায়। এখানে আগের পরিচিত রোমান্টিক চরিত্রের বদলে তাঁকে দেখা যায় জটিল ও রহস্যময় পরিবেশে গড়ে ওঠা একটি চরিত্রে।
পরবর্তী সময়ে ‘দ্য লস্ট ডটার’, ‘পারসুয়েশন’ ও ‘চা চা রিয়েল স্মুথ’-এর মতো সিনেমায় কাজ করেন তিনি। এসব ছবির মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি অভিনয়ের ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের আগ্রহও প্রকাশ পেয়েছে।
ডাকোটার ক্যারিয়ারের এই পরিবর্তন থেকে বোঝা যায়, একটি জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিচিতির বাইরে নিজের জন্য নতুন জায়গা তৈরি করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনায় ডাকোটা
শুধু অভিনয় নয়, সিনেমা নির্মাণের প্রক্রিয়াতেও নিজের ভূমিকা বাড়িয়েছেন ডাকোটা জনসন। এ লক্ষ্যেই সাবেক নেটফ্লিক্স নির্বাহী রো ডনেলির সঙ্গে তিনি গড়ে তোলেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি টাইম পিকচার্স।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি বোট রকারের সঙ্গে ফার্স্ট-লুক চুক্তি করে। এর মাধ্যমে নতুন গল্প ও চলচ্চিত্র প্রকল্প উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়।
প্রযোজক হিসেবে ‘চা চা রিয়েল স্মুথ’, ‘অ্যাম আই ওকে?’ এবং ‘ড্যাডিও’সহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেছেন ডাকোটা। ‘ড্যাডিও’ ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ছবিটিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন শন পেন।
২০২৪ সালে ‘ফোর্বস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টি টাইম পিকচার্সের কাজ নিয়ে ডাকোটা ও রো ডনেলি তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় থাকলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন বলে জানান তাঁরা।
প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে এখন শুধু পর্দায় কোন চরিত্রে অভিনয় করবেন, সেই সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ নেই ডাকোটার ভূমিকা। কোন গল্প নির্মিত হবে এবং কোন প্রকল্প দর্শকের সামনে আসবে, সেসব ক্ষেত্রেও অংশ নিচ্ছেন তিনি।
‘ম্যাডাম ওয়েব’ নিয়ে সমালোচনা
ডাকোটার ক্যারিয়ারের সব সিনেমা অবশ্য প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া সুপারহিরো সিনেমা ‘ম্যাডাম ওয়েব’ তাঁর জন্য তেমনই একটি আলোচিত কাজ।
সনি পিকচার্সের এই ছবিতে ক্যাসান্দ্রা ওয়েব চরিত্রে অভিনয় করেন ডাকোটা। তবে মুক্তির পর সিনেমাটি সমালোচকদের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় এবং বক্স অফিসেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় ছিল প্রায় ১০ কোটি ডলারের কিছু বেশি।
পরবর্তী সময়ে ‘ম্যাটেরিয়ালিস্টস’ নিয়ে আলোচনার সময় বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিজের মতামত জানান ডাকোটা। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, বড় স্টুডিওর সিনেমায় অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব একাধিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে থাকে। ফলে নির্মাণের শুরুতে যে ধারণা থাকে, চূড়ান্ত সিনেমা তা থেকে অনেকটাই আলাদা হয়ে যেতে পারে।
‘ম্যাডাম ওয়েব’–এর ব্যর্থতা নিয়ে তাঁর মন্তব্যও আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এই অভিজ্ঞতা থেকে নিজের পছন্দের গল্প এবং সৃজনশীল সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়।

ব্যক্তিজীবন নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই
পর্দার বাইরেও ডাকোটা জনসনের ব্যক্তিজীবন নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও ভক্তদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে কোল্ডপ্লের সংগীতশিল্পী ক্রিস মার্টিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা হয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ্যে আনার বিষয়ে বরাবরই সতর্ক ডাকোটা। নিজের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত পরিসর নিয়ে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ না করার প্রবণতা তাঁর মধ্যে দেখা যায়।
খ্যাতির কারণে একজন তারকার ব্যক্তিজীবনও নিয়মিত আলোচনায় চলে আসে। কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে ডাকোটা সচেতন। অভিনয়জীবনে পরিচিতি যত বেড়েছে, ব্যক্তিগত পরিসর রক্ষার বিষয়টিও তত বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তাঁর কাছে।
এদিকে কলিন হুভারের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘ভেরিটি’ সিনেমা নিয়েও আলোচনায় রয়েছেন ডাকোটা। ছবিটিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে ও জশ হার্টনেট।
কত সম্পদের মালিক ডাকোটা জনসন
বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের সম্পদ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন হিসাবের মধ্যে ‘সেলিব্রিটি নেট ওয়ার্থ’–এর অনুমান অনুযায়ী, ডাকোটা জনসনের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, যা আনুমানিক ১৬৫ কোটি টাকার সমান হতে পারে। তবে এটি আনুমানিক হিসাব; তাঁর প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
অভিনয় থেকে পাওয়া পারিশ্রমিক তাঁর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। বিশেষ করে ‘ফিফটি শেডস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্য তাঁর ক্যারিয়ারে বড় আর্থিক সুযোগ তৈরি করে। পরবর্তী সিনেমাগুলোতে অভিনয়, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও তাঁর আয়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।
একসময় যে সিনেমার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ও বিতর্ক তাঁকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এনেছিল, সেই পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এখন অভিনয় ও প্রযোজনা—দুই ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন ডাকোটা জনসন। হলিউডে তাঁর পরবর্তী যাত্রা কোন দিকে এগোয়, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে ভক্তদের।
সূত্র: আইএমডিবি, ভ্যানিটি ফেয়ার, ভ্যারাইটি, ফোর্বস ও সেলিব্রিটি নেট ওয়ার্থ।
