মাহমুদুল হাসানের সেঞ্চুরি, রুয়েলের ৫ উইকেট, ফলো অনে বরিশাল
মিরপুরে বিপাকে ঢাকা
২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় দিন শেষে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে বরিশাল বিভাগ। খুলনার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৪ রানে অলআউট হয়ে ফলো অনে পড়েছে দলটি। অন্যদিকে চট্টগ্রামে সেঞ্চুরি পেয়েছেন জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়।
দিন শেষে রাজশাহীর বিপক্ষে ১০২ রানে অপরাজিত আছেন মাহমুদুল। একই সঙ্গে খুলনার হয়ে বল হাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে আলো ছড়িয়েছেন বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া।
মাহমুদুলের সেঞ্চুরি, অপেক্ষায় সাদিকুর
চট্টগ্রামে রাজশাহীর বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। বাংলাদেশের টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া এই ওপেনার দ্বিতীয় দিন শেষে ১০২ রানে অপরাজিত আছেন। তাঁর সঙ্গে ১৯০ রানের অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটিতে রয়েছেন সাদিকুর রহমান। তিনি দিন শেষ করেছেন ৮৬ রানে অপরাজিত থেকে।
এর আগে ৬ উইকেটে ২৯০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করা রাজশাহীর প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩৬৪ রানে। চট্টগ্রামের বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ ৯৬ রান খরচায় নিয়েছেন ৪ উইকেট।
জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলা মাহমুদুলের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি সপ্তম সেঞ্চুরি। ৮৭ রানে পৌঁছানোর সময় এই সংস্করণে ৩ হাজার রানও পূর্ণ করেন ২৩ টেস্ট খেলা এই ওপেনার।
মিরপুরে বিপাকে ঢাকা
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে ২২৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে রংপুর। শেষ পর্যন্ত তাদের প্রথম ইনিংস থামে ৩৪০ রানে।
এরপর দ্বিতীয় সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপদে পড়ে ঢাকা। দিন শেষে ৬ উইকেটে ১২০ রান তুলেছে দলটি। মাত্র ৭৪ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর তাইবুর রহমান ও সুমন খান দলের ইনিংস সামলেছেন। তাইবুর ৩২ ও সুমন ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।
রংপুরের মিডিয়াম পেসার চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান পেয়েছেন ২ উইকেট।
এর আগে ব্যাট হাতেও দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন রিজওয়ান। রংপুরের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন তিনি। আট ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক এই ক্রিকেটারের এটি প্রথম ফিফটি।
ঢাকার বাঁহাতি স্পিনার আরিফ আহমেদ ৯২ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

সিলেটের লিড নেওয়ার লড়াই
সিলেটে ৭ উইকেটে ২৭৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ময়মনসিংহ। দিন শেষে তাদের প্রথম ইনিংস থামে ৩১১ রানে।
সিলেটের হয়ে বল হাতে দারুণ করেছেন পেসার তোফায়েল আহমেদ এবং দুই স্পিনার নাঈম আহমেদ ও নাবিল সামাদ। তিনজনই পেয়েছেন ৩টি করে উইকেট।
এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দিন শেষে ৫ উইকেটে ২৩৬ রান করেছে সিলেট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেছেন অধিনায়ক ও ওপেনার জাকির হাসান।
তবে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামা আসাদউল্লাহ আল গালিব ৫৫ রানে অপরাজিত আছেন। ফলে তৃতীয় দিনে সিলেটের লক্ষ্য থাকবে ময়মনসিংহের বিপক্ষে লিড নেওয়া।
রুয়েলের ৫ উইকেট, ফলো অনে বরিশাল
ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা নিয়ে ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বরিশাল বিভাগ। খুলনায় স্বাগতিক খুলনার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৪ রানে অলআউট হওয়ার পর ফলো অনে পড়েছে তারা।
৫ উইকেটে ৩২৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করা খুলনার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪২৬ রানে। এরপর মধ্যাহ্নবিরতির পর ব্যাটিংয়ে নেমে বরিশাল মাত্র ২৮.৪ ওভারে গুটিয়ে যায়।
বরিশালের হয়ে প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন উদ্বোধনী ব্যাটার ও অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন। খুলনার বোলারদের মধ্যে সফর আলী ২, আবদুল হালিম ২, মেহেদী হাসান রানা ৩ এবং অফ স্পিনার শেখ পারভেজ ৩ উইকেট নেন।

বল হাতে রুয়েলের দাপট
খুলনার প্রথম ইনিংসে ৪৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা আফিফ হোসেন ফিফটি পূর্ণ করেই ফিরে যান। তাঁকে আউট করে চতুর্থ উইকেট পান রুয়েল মিয়া। এরপর খুলনার শেষ উইকেটটিও তুলে নিয়ে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি পেসার।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি রুয়েল মিয়ার এক ইনিংসে অষ্টমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি।
ফলো অনে নেমে দ্বিতীয় দিন শেষে বরিশালের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪৩ রান। ফলে খুলনার প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ২৮৯ রানে পিছিয়ে আছে বরিশাল। তৃতীয় দিনে বড় কোনো প্রতিরোধ গড়তে না পারলে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা রয়েছে দলটির।
