প্রতি টন পাটপণ্যে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় সম্ভব

৩ থেকে ৮ অক্টোবর চলবে পাটপণ্য মেলা

কাঁচা পাট রপ্তানি করে প্রতি টনে যেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার আয় হয়, সেখানে পাটকে প্যাকেজিং পণ্য কিংবা মিশ্র তন্তুর (ব্লেন্ডেড ফাইবার) পণ্যে রূপান্তর করা গেলে প্রতি টনে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্য পাওয়া সম্ভব। পাটে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও রাজস্ব বাড়াতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।

মূল্য সংযোজিত পাটপণ্যে জোর সরকারের

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মনিপুরীপাড়ায় জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলা’ ও নতুন বিক্রয়কেন্দ্র ‘জেডিপিসি এক্সপ্রেস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

শনিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে উচ্চমূল্যের পাটপণ্য তৈরি ও রপ্তানির দিকে যেতে চায় সরকার। এতে পাট থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং রাজস্ব আয় আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাটসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং জেডিপিসি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন।

মিশ্র তন্তুর পাটপণ্যে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্য

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, দেশের উৎপাদিত পাটের বড় অংশকে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে জেডিপিসি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।

পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, পাটের সঙ্গে তুলা বা অন্য তন্তু মিশিয়ে মিশ্র তন্তুজাত পণ্য উৎপাদন করা গেলে প্রতি টনে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্য পাওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কোন খাতে এবং কী ধরনের মূল্য সংযোজিত পণ্যে কত পরিমাণ পাট ব্যবহার করা সম্ভব, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পাট থেকে বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্বের সর্বোচ্চ আহরণ সম্ভব হবে।

তাঁত ও পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ

রেশম, তাঁত ও পাটপণ্যকে তৈরি পোশাকের বাইরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। এসব খাতের বিকাশে সহায়ক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরির জন্য জেডিপিসিতে স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, মেলার মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রচার বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং মানুষকে পলিথিন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করাই অন্যতম লক্ষ্য।

এ ছাড়া জিআই পণ্য, বহুমুখী পাটপণ্য, রাজশাহী সিল্ক, তাঁতসহ বস্ত্র খাতের বিভিন্ন পণ্যের পরিচিতি ও ব্যবহার বাড়াতেও সরকার কাজ করছে।

আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) প্রাঙ্গণে ছয় দিনব্যাপী ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলা’ ও নতুন বিক্রয় কেন্দ্র ‘ জেডিপিসি এক্সপ্রেসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরছবি : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

বিদেশেও দেশীয় পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র করার পরিকল্পনা

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘জেডিপিসি এক্সপ্রেস’ স্থায়ী বিক্রয় ও প্রদর্শনকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এখানে বহুমুখী পাটপণ্যের পাশাপাশি তাঁত ও রেশমের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে।

ভবিষ্যতে দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনেও দেশীয় পণ্যের শোরুম বা ডিসপ্লে সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে বাংলাদেশের পণ্যের পরিচিতি ও ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যকর প্রচার প্রয়োজন।

৩ থেকে ৮ অক্টোবর চলবে পাটপণ্য মেলা

জেডিপিসি প্রাঙ্গণের ১৪৫ মনিপুরীপাড়ায় আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য মেলা ৩ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

অন্যদিকে, নতুন বিক্রয়কেন্দ্র ‘জেডিপিসি এক্সপ্রেস’ সপ্তাহের সাত দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *