পরীমণি সহশিল্পীদের ওপর ক্ষুব্ধ: ৩টি বড় আক্ষেপ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য

Spread the love

ঢালিউড তারকা পরীমণি আবারও গণমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন স্পষ্টভাষী বক্তব্যের মাধ্যমে। নিজের অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি নানা সময় সমসাময়িক বিষয়ে খোলামেলা কথা বলার জন্য তিনি সব সময়ই আলোচিত। তবে এবারের আলোচনা কোনো নতুন চলচ্চিত্র ঘিরে নয়, বরং চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীদের আচরণ ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ নিয়ে তোলা কিছু তিক্ত প্রশ্নকে কেন্দ্র করে।

কঠিন সময়ে সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে চিত্রনায়িকা পরীমণি বিনোদন অঙ্গনের শিল্পী ঐক্যের বাস্তবতা নিয়ে তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

১. বিপদে পাশে না থাকার আক্ষেপ

সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় নিজের একাকিত্ব ও সহকর্মীদের উদাসীনতার কথা তুলে ধরেন পরীমণি। তিনি জানান, অতীতে ইন্ডাস্ট্রির অন্য সহকর্মীরা আইনি বা সামাজিক প্রতিকূলতার মুখে পড়লে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এসেছেন। কিন্তু নিজের সংকটে সেই একই সহমর্মিতা খুঁজে পাননি।

তাঁর কথায়, “মাহি ও নুসরাত ফারিয়া যখন গ্রেফতার হলো, প্রথমে আমি কথা বলেছি, তারপর সবাই বলা শুরু করল। অথচ আমি বিপদে পড়লে কেউ কিন্তু দেখেও দেখে না।”

এই ধরনের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ঢালিউডে পারস্পরিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কতটা গভীরে প্রোথিত। নিজের আইনি সংকট ও ব্যক্তিগত ঝড়ের মুহূর্তে সহশিল্পীদের নিশ্চুপ থাকা অভিনেত্রীর মনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।

পরীমণি সহশিল্পীদের নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন
পরীমণি সহশিল্পীদের নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন | ফটো কার্ড: দৈনিক খবর

২. ‘শিল্পীরা এক নই’—পরীমণির স্পষ্ট বার্তা

চলচ্চিত্র পরিবার হিসেবে প্রায়ই ইন্ডাস্ট্রির সবাইকে একতাবদ্ধ দাবি করা হলেও বাস্তবে সেই দাবির ভিত্তি কতটুকু, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন পরীমণি।

তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন: “তাহলে আমরা শিল্পীরা কীভাবে এক হলাম? আমরা তো এক নই! সেটাই বারবার প্রমাণ হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

শিল্পীদের সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি কিংবা জনসম্মুখে প্রায়ই ‘চলচ্চিত্র পরিবার এক’ স্লোগান শোনা যায়। তবে পরীমণির মতে, সংকটকালীন মুহূর্তে এই ঐক্যের কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। প্রয়োজনের সময় পারস্পরিক নীরবতা প্রমাণ করে দেয় যে এই একতা কেবলই আনুষ্ঠানিক, আন্তরিক নয়।

৩. ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বর্তমান বাস্তবতা

পরীমণি যে অভিযোগ তুলেছেন, তা ঢালিউডের জন্য সম্পূর্ণ নতুন নয়। অতীতেও বহু অভিনয়শিল্পী সহকর্মীদের অসহযোগিতা ও সিন্ডিকেটের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। সহকর্মীর দুঃসময়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অথবা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরে মুখ খোলার প্রবণতা পেশাদার অঙ্গনকে বিভক্ত করে রেখেছে।

ঢালিউডের চলমান সংকট কাটাতে শুধু সিনেমার বাজেট বা টেকনিক্যাল উন্নতি যথেষ্ট নয়; পারস্পরিক বিশ্বাস ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করাও অত্যন্ত জরুরি। একজন শিল্পী যখন দুঃসময়ে সহকর্মীদের পাশে পাবেন না, তখন সামগ্রিক চলচ্চিত্র পরিবারের কাঠামোই দুর্বল হয়ে পড়ে। পরীমণির এই অকপট বক্তব্য আসলে সেই গোপন সত্যকেই সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পরীমণির এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ দর্শক ও নেটিজেনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া।

একদল অনুরাগী মনে করছেন, পরীমণির এই ক্ষোভ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত। তাদের মতে, অন্যের দুঃসময়ে এগিয়ে যাওয়া মানুষের যখন নিজের সংকটে পাশে কাউকে পাওয়া যায় না, তখন ক্ষোভ জন্মানো অনিবার্য। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র অঙ্গনের কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, গণমাধ্যমে পারস্পরিক দোষারোপ না করে অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম বা শিল্পী সমিতির মাধ্যমেই এমন মতবিরোধ সমাধান করা শ্রেয়।

শেষ কথা

ঢালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি বরাবরই নিজের অবস্থান স্পষ্ট রাখতে পছন্দ করেন। সহশিল্পীদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তাঁর তোলা প্রশ্নগুলো হয়তো আপাতত সমালোচনার জন্ম দেবে, তবে একই সাথে তা পুরো বিনোদন অঙ্গনকে নিজেদের পারস্পরিক দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে ভাবতেও বাধ্য করবে।


বিনোদনের আরো খবর পড়তে ক্লিক করুন
এখানে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *