জনপ্রিয় আর্কেড ভিডিও গেমের স্মৃতি নিয়ে বড় পর্দায় আসছে বিশ্বখ্যাত ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্ট্রিট ফাইটার’। সবুজ চামড়ার দানব ব্ল্যাঙ্কা রূপে হাজির হচ্ছেন হলিউড সুপারস্টার জেসন মোমোয়া। যোগ সাধনায় পারদর্শী ধালসিমের চরিত্রে দেখা যাবে ভারতীয় মার্শাল আর্ট ও অ্যাকশন তারকা বিদ্যুৎ জামওয়ালকে।
একই মঞ্চে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ আকুমা হয়ে রিং কাঁপাতে আসছেন আধুনিক রেসলিং জগতের জনপ্রিয় তারকা রোমান রেইন্স। গেমিং দুনিয়ার কিংবদন্তি চরিত্রগুলোর এমন তারকাবহুল সমাবেশ নিয়ে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্র ‘স্ট্রিট ফাইটার’।
আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য দারুণ সুখবর এনেছে দেশের শীর্ষ মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্স। প্রতিষ্ঠানটির প্রদর্শনী তালিকা অনুযায়ী, বিশ্ববাজারের পাশাপাশি ঢাকার দর্শকরাও একই সঙ্গে সিনেমাটি উপভোগ করার দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন।
স্ট্রিট ফাইটার চলচ্চিত্রের পেছনের কারিগর ও চরিত্রায়ণ
ক্যাপকমের (Capcom) কালজয়ী মারকুটে ভিডিও গেম সিরিজের ওপর ভিত্তি করে ছবিটি পরিচালনা করেছেন তরুণ ও প্রভাবশালী নির্মাতা কিতাও সাকুরাই। গেমের কাল্পনিক চরিত্র ও অবিশ্বাস্য শারীরিক কসরতকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি ব্যবহার করেছেন আধুনিক ভিএফএক্স ও দুর্দান্ত স্টান্ট কোরিওগ্রাফি।
গেমের প্রধান দুই মেরু রিউ এবং কেনের রসায়ন এই সিনেমার মূল প্রাণ। রিউ চরিত্রে অসাধারণ মার্শাল আর্ট শৈলী প্রদর্শন করেছেন ব্রিটিশ অভিনেতা অ্যান্ড্রু কোজি। তাঁর আজীবন প্রতিদ্বন্দ্বী ও পরম বন্ধু কেন মাস্টার্সের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নোয়া সেন্টিনিও।
এছাড়া স্ট্রিট ফাইটার ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম আবেদনময়ী ও দুর্ধর্ষ নারী যোদ্ধা চুন-লির চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্যালিনা লিয়াং। প্রতিটি চরিত্রের পোশাক ও যুদ্ধশৈলীকে গেমের মূল আবহ অক্ষুণ্ণ রেখে সেলুলয়েডে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
১৯৯৩ সালের প্রেক্ষাপট ও ওয়ার্ল্ড ওয়ারিয়র টুর্নামেন্ট
চলচ্চিত্রটির গল্পের পটভূমি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯৩ সালে, যে সময়টিতে আর্কেড গেমের উন্মাদনা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিনের পথচলায় দুই দক্ষ মার্শাল আর্ট যোদ্ধা রিউ ও কেনের মধ্যকার বন্ধুত্বে ফাটল ধরে এবং তাদের মাঝে তৈরি হয় গভীর দূরত্ব।
এই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রহস্যময়ী ইন্টারপোল এজেন্ট চুন-লি তাদের পুনরায় লড়াইয়ের ময়দানে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আত্মশুদ্ধি ও সম্মানের লড়াইয়ে দুজন যোগ দেন রোমাঞ্চকর ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ারিয়র টুর্নামেন্ট’-এ।
সেখানে তাদের মোকাবিলা করতে হয় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সব অজেয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে এই টুর্নামেন্ট কেবল ব্যক্তিগত শক্তি কিংবা শারীরিক কৌশল প্রদর্শনের ময়দান নয়। এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে গোটা মানবজাতিকে ধ্বংস করার এক আন্তর্জাতিক চক্রান্ত।

মোমোয়া, জামওয়াল ও রেসলিং তারকাদের মেগা সংঘাত
অ্যাকশনের পাশাপাশি ছবিটির প্রধানতম আকর্ষণ হলো আন্তর্জাতিক বিনোদন দুনিয়ার সেরা অ্যাকশন তারকাদের একত্রীকরণ। ভারতীয় দর্শকদের মাঝে আলাদা উন্মাদনা তৈরি করেছেন বিদ্যুৎ জামওয়াল। হাত-পা প্রসারণে সক্ষম যোগগুরু ধালসিমের ভূমিকায় তাঁর উপস্থিতি পর্দায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অন্যদিকে ‘অ্যাকুয়াম্যান’ খ্যাত জেসন মোমোয়া ব্ল্যাঙ্কা চরিত্রে সম্পূর্ণ রূপান্তরিত হয়ে পর্দায় হাজির হয়েছেন। তাঁর আদিম হিংস্র রূপ ও বিধ্বংসী শক্তি দর্শকদের চোখ ধাঁধিয়ে দেবে। রেসলিংপ্রেমীদের উন্মাদনা বাড়িয়ে দিয়েছেন জনপ্রিয় ডব্লিউডব্লিউই সুপারস্টার কোডি রোডস, যাঁকে দেখা যাবে ইউএস এয়ারফোর্সের মেজর গাইল চরিত্রে।
কাহিনীর প্রধান খলনায়ক এবং অপরাধ সিন্ডিকেট শ্যাডালুর প্রধান এম বাইসনের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন ডেভিড ডাস্টমালচিয়ান। এছাড়া বক্সার বালরগ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মার্কিন র্যাপার ও অভিনেতা কার্টিস ‘ফিফটি সেন্ট’ জ্যাকসন। বিনোদন জগতের এমন বিচিত্র সংমিশ্রণ নিয়ে আরও নানা আপডেট পাওয়া যাচ্ছে দৈনিক খবর-এর বিনোদন পাতায়।
গেমিং নস্টালজিয়া ও বড় পর্দার রোমাঞ্চ
ভিডিও গেমের সাধারণ ভক্তদের মূল আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু প্রিয় চরিত্রগুলোর নিজস্ব ট্রেডমার্ক আক্রমণগুলো দেখার মধ্যে। গেমের সিগনেচার মুভ ‘হাডুকেন’, ড্রাগন পাঞ্চ কিংবা শতঘূর্ণি লাথি নিখুঁতভাবে বড় পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
চলচ্চিত্রটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান লেজেন্ডারি এন্টারটেইনমেন্ট ও পরিবেশক প্যারামাউন্ট পিকচার্স জানিয়েছে, গেমারদের আবেগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই অ্যাকশন দৃশ্যগুলো সাজানো হয়েছে। কোনো কৃত্রিম কাটছাঁট ছাড়া টানা অ্যাকশন সিকোয়েন্স রাখা হয়েছে দর্শকদের রোমাঞ্চিত করতে।
আর্কেড মেশিনে জয়স্টিক ঘুরিয়ে লড়াই করার সেই কৈশোরের অনুভূতি প্রেক্ষাগৃহের বড় পর্দায় কতখানি জীবন্ত রূপ পায়, তা দেখতে এখন প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করছেন বিশ্বজুড়ে থাকা ‘স্ট্রিট ফাইটার’ প্রেমীরা। ঢাকার মাল্টিপ্লেক্সেও এই উন্মাদনার কমতি নেই।